এশিয়ায় স্পট মার্কেটে চলতি সপ্তাহেও প্রায় এক বছরের সর্বনিম্ন দামে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বেচাকেনা হয়েছে। এ সময় সামগ্রিকভাবে জ্বালানি পণ্যটির চাহিদা কম থাকলেও অঞ্চলের তিনটি রফতানি প্লান্ট থেকে সরবরাহ বিঘ্ন এবং কিছু ক্রেতার আগ্রহ উল্লেখযোগ্য দরপতনকে কিছুটা রোধ করেছে। খবর বিজনেস রেকর্ডার।
শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় জুনে সরবরাহের জন্য চলতি সপ্তাহে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির গড় মূল্য ছিল ১১ ডলার ৫০ সেন্ট, যা মে মাসের মাঝামাঝি সময়ের পর সর্বনিম্ন। আগের সপ্তাহে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজি ১১ ডলার ৮০ সেন্টে বেচাকেনা হয়েছে।
স্বতন্ত্র জ্বালানি গবেষণা ও ব্যবসা পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান রাইস্ট্যাড এনার্জির সিনিয়র অ্যানালিস্ট মাসানোরি ওডাকা বলেন, ‘চলতি সপ্তাহে দাম কম থাকায় পূর্ব এশীয় আমদানিকারক দেশগুলো স্পট মার্কেট থেকে ক্রয় বাড়িয়েছে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া ও ব্রুনাইয়ের রফতানি প্রকল্পগুলো থেকে সরবরাহে ব্যাঘাত মূল্য পতনের ধারাকে কিছুটা কমিয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘কিছু আমদানিকারক দামের নিম্নমুখী প্রবণতা কাজে লাগিয়েছে। অন্য আমদানিকারকদের কাছে পর্যাপ্ত মজুদ থাকায় তারা এখনো বাজার পর্যবেক্ষণ করছে।’
মাসানোরি ওডাকা জানান, কোরিয়া গ্যাস করপোরেশন, তাইওয়ানের সিপিসি করপোরেশন ও একজন চীনা আমদানিকারক সম্প্রতি স্পট মার্কেট থেকে ক্রয় করেছে।
অস্ট্রেলিয়ার ইকথিস এলএনজি প্লান্ট পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ইনপেক্স কর্প জানিয়েছে, তাদের প্লান্টে উৎপাদন সাময়িকভাবে কমেছে। তবে ব্যাঘাতের কারণ অথবা কবে পূর্ণ উৎপাদন শুরু হবে সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেয়নি কোম্পানিটি।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মালয়েশিয়ার বিনটুলু এলএনজি কমপ্লেক্স ও ব্রুনাই এলএনজি প্লান্ট উভয়েই উৎপাদন সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। ব্রুনাই এলএনজি চলতি মাসে জুনে সরবরাহের জন্য একটি টেন্ডার আহ্বান করলেও তা পরে বাতিল করে।
এদিকে আরগাসের হেড অব এলএনজি প্রাইসিং মার্টিন সিনিয়র বলেন, ‘১৬ এপ্রিল কেবল একটি এলএনজি ক্যারিয়ার আটলান্টিক থেকে এশিয়ার দিকে মোড় ঘুরিয়েছে। এ উৎপাদন বিঘ্নের পরও এশিয়ার ক্রেতারা এখনো আটলান্টিক অঞ্চলের কার্গোর জন্য বড় কোনো প্রতিযোগিতামূলক পদক্ষেপ নেয়নি।’
এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল কমোডিটি ইনসাইটস গত বৃহস্পতিবার জুনের সরবরাহ চুক্তিতে নর্থওয়েস্ট ইউরোপ এলএনজি মার্কার (এনডব্লিউএম) বাজার আদর্শে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম স্থির করেছে ১১ ডলার ১২ সেন্টে। একই মাসের সরবরাহ চুক্তিতে টিটিএফে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজিতে ৭৪ সেন্ট ছাড় দেয়া হয়েছে।
আরগাস প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির মূল্য নির্ধারণ করেছে ১১ ডলার ২৯ সেন্ট। অন্যদিকে স্পার্ক কমোডিটিজ ফেব্রুয়ারির সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম নির্ধারণ করেছে ১০ ডলার ৯৫ সেন্ট।
স্পার্ক কমোডিটিজের বিশ্লেষক কাসিম আফগান জানান, শুক্রবার আটলান্টিক মহাসাগরীয় পথে এলএনজির পরিবহন ব্যয় চতুর্থ সপ্তাহের মতো কমে দৈনিক ২১ হাজার ৭৫০ ডলারে নেমে এসেছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় পথে তা কমে দৈনিক ২৩ হাজার ২৫০ ডলারে স্থির হয়েছে।